
দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। গত ০১ মে থেকে ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চালানো টানা ৭৩ দিনের এই বিশেষ অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩২ হাজার ৯০৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া, নিয়মিত অন্যান্য মামলা ও সাধারণ অভিযানে আরও ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।উদ্ধারকৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদচলমান এই বিশেষ অভিযানে অপরাধীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে:মোট আগ্নেয়াস্ত্র: ২৪৩টি (যার মধ্যে পিস্তল ৭৬টি, বন্দুক ৫০টি, এলজি ৩৩টি, শুটারগান ৩০টি, রিভলবার ১৮টি, পাইপগান ১৫টি, এয়ারগান ১২টি, শটগান ৪টি, রাইফেল ২টি, এসএমজি ২টি এবং পেনগান ১টি)।গুলি ও কার্তুজ: ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড।ম্যাগাজিন: ৮৮টি।দেশীয় অস্ত্র: ৫০৩টি।বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম: ৪৩টি ককটেল, ২ কেজি গান পাউডার, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বাজি।মাদকবিরোধী অভিযানে রেকর্ড পরিমাণ মাদক জব্দঅস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। এই ৭৩ দিনে উদ্ধার হওয়া মাদকের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:ইয়াবা: ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭৬ পিস।হেরোইন: ৮ হাজার ২৮৪ পুরিয়া।ফেনসিডিল: ৩ হাজার ১৮৬ বোতল।বিদেশি ও দেশি মদ: ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ এবং ৩৫৪ বোতল দেশি মদ।গাঁজা: ৫ হাজার ৩৩৬ পুরিয়া।পুলিশ জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদকজাতীয় দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে মোট ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব মামলায় ২০ হাজার ৪৩৯ জন মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্মূল করার লক্ষ্যে পুলিশের এই কঠোর ও বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।