
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক যুবলীগ নেতার স্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদসহ পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আদালতে মিথ্যা এজাহার দাখিল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ জুন গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা নুরুল আলমের মৃত্যুকে ‘হেফাজতে নির্যাতন’ দাবি করে তার মা নূর জাহান আদালতে যে অভিযোগটি করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও অবস্থানপুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নুরুল আলমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারের সময় বা পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের কোনো পর্যায়েই তার ওপর কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, আইন অনুযায়ী তাকে যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আদালত প্রাঙ্গণে বা সোপর্দের সময় তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না এবং তিনি সুস্থ ছিলেন। এসপি মাসুদের নির্দেশ বা উপস্থিতিতে কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। একটি চিহ্নিত চক্র আইনি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হয়রানি করতেই এই এজাহার দায়েরের নাটক সাজিয়েছে।কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও প্রকৃত ঘটনাকারা সূত্র নিশ্চিত করেছে, নুরুল আলমকে যখন কারাগারে আনা হয়, তখন তিনি আগে থেকেই কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে কারাকর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।এজাহারে জেলার রাকিব শেখ কর্তৃক নতুন করে মারধরের যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যমূলক। কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অসুস্থ কয়েদি বা হাজতিদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া নিয়ম। নুরুল আলমের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তার মৃত্যুকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং কারা কর্মকর্তাদের ওপর দায় চাপাতে এই মিথ্যা গল্প ফাঁদা হয়েছে।আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিএসপি মাসুদসহ এজাহারভুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এই মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার বিরুদ্ধে তারা আইনিভাবেই লড়বেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জড়িয়ে দায়ের করা এই এজাহারের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা কাজ করছে কি-না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য এবং নুরুল আলমের মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ দ্রুতই সামনে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।