
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলার তদন্তে এক ঐতিহাসিক মোড় এসেছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করে খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ১৫০ পৃষ্ঠার এই খসড়া চার্জশিট ও ডকেটটি আইনি মতামতের জন্য ইতিমধ্যেই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল জালিয়াতির নেটওয়ার্কটি বাংলাদেশসহ মোট সাতটি দেশে বিস্তৃত ছিল। মামলার প্রমাণক হিসেবে সিআইডি প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সংগৃহীত ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ যুক্ত করেছে।বাংলাদেশের অভিযুক্ত ১০ জন কারা?সিআইডির সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের যে ১০ জন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিকে এই চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন:ড. আতিউর রহমান (সাবেক গভর্নর)আনিস এ খানকে এম আব্দুল ওয়াদুদশুভংকর সাহারেজাউল করিমজোবায়ের বিন হুদাএ এফ এম আসাদুজ্জামানমেজবাউল হকআবুল কাসেমমো. সুলতান মাসুদ আহমেদএ ছাড়া ভারতের চারজন অভিযুক্তের মধ্যে প্রিথাম রেড্ডি, সুধীন্দ্র আথ্রেশ, নীলাভান্নান মাদুক্কুর আনন্দন ও রাশে আস্থানার নাম জানা গেছে।তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য ও পরবর্তী ধাপ:সিআইডির ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ও মামলার সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা আল মামুন জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আইনি মতামত পাওয়ার পরপরই এটি আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে।অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্রুত চার্জশিট গঠন এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অপরাধ দমনে একটি কঠোর ও শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে।