
আদালতের পেশকার ও জারিকারকদের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম এবং বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে নোটিশ জারি করা হয় না এবং বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম প্রভাবিত করা হয়।ভুক্তভোগীদের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও রাজধানীর সিএমএম কোর্টসহ বিভিন্ন আদালতে কিছু পেশকার ও জারিকারকের বিরুদ্ধে অনিয়মের চিত্র বহাল রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত নোটিশ জারি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ না দিলে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হয় কিংবা জারি প্রতিবেদন দাখিল করা হয় না।অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে বিচারকের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জারি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। আবার কোনো কোনো ঘটনায় বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সুবিধামতো মামলার অগ্রগতি বিলম্বিত করারও অভিযোগ রয়েছে।এক ভুক্তভোগীর দাবি, মিরপুর থানাসংশ্লিষ্ট একটি মামলায় আদালত সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেও অর্থ না দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জারি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়নি।অভিযোগকারীদের মতে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় কিছু পেশকার ও জারিকারকের মধ্যে প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের প্রবণতা বেড়েছে। তাদের দাবি, এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিতভাবে, অন্তত ছয় মাস পরপর বদলির ব্যবস্থা করা হলে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ অনেকাংশে কমে আসতে পারে।এদিকে বিভিন্ন আদালতের কিছু পেশকার ও জারিকারকের বিপুল সম্পদের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত প্রশাসন বা অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।