
নানা অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সাবেক কাস্টমস কমিশনার একেএম নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, চোরাচালান সিন্ডিকেটে সহায়তা এবং দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যতাঅভিযোগ রয়েছে, চাকরিকালীন সময়ে তিনি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন অনিয়ম ধামাচাপা দেন। তার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ এবং সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী সাজেদা চৌধুরী-র সখ্যতার কথাও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার শৈলঢুবি গ্রামে হলেও তিনি নিজেকে গোপালগঞ্জের পরিচয়ে পরিচিত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।নিয়োগ বাণিজ্য ও কেলেঙ্কারি২০০৯ সালে ঢাকা দক্ষিণে দায়িত্ব পালনকালে স্বজন ও এলাকাবাসীকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে কমলাপুর আইসিডিতে নিয়োগ বাণিজ্য ও গুঁড়া দুধ কেলেঙ্কারিতেও তার নাম জড়ায়। তবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি শাস্তি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।চোরাচালান সিন্ডিকেটে সহায়তার অভিযোগগোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কয়েকটি স্থলবন্দর থেকে রাজধানীর ইসলামপুর ও নয়াবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চোরাই পণ্যের সিন্ডিকেটকে সহায়তা দিতেন তিনি। রাজস্ব বিভাগের বন্ড কমিশনারেট, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর অনুসন্ধানে এ সংক্রান্ত তথ্য উঠে আসে।২০১৭ সালের ২০ আগস্ট পুরান ঢাকার গুলশান আরা সিটি মার্কেটের সামনে কাভার্ড ভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য উদ্ধারের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির তথ্য পায় তদন্তকারী সংস্থা। ওই ঘটনার সঙ্গেও নুরুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।এর আগে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে ভুয়া নথি তৈরি করে ডুপ্লেক্স বোর্ড কাগজ আমদানির মাধ্যমে চোরাচালানের অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা। আদমজী ইপিজেডকেন্দ্রিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও তদন্ত হয়। এসব মামলার তদন্ত করে সিআইডি।তদন্তের দাবিসংশ্লিষ্ট মহল বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তার অবৈধ সম্পদের উৎস ও দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।