
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের ২৪ জেলায় খুনোখুনিসহ সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে কেরানীগঞ্জে এক বিএনপি নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট এখন বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলই এই ভোট নিজেদের পক্ষে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে এই দুই দলের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে, যা সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।এ ছাড়া ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হওয়া জঙ্গিরাও নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।সম্প্রতি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে কিছু ঘটনা নতুন করে দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিদেশি দূতাবাসগুলোও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিক এবং দূতাবাসে কর্মরতদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য তিনটি জেলায় ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাজ্য পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ভ্রমণে বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে।যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এসব ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে ভীতি তৈরি হচ্ছে, যার ফলেই তারা আগাম পদক্ষেপ নিচ্ছেন।ড. তৌহিদুল হক বলেন, দেশে এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বিদেশি বা দেশি—সব নাগরিকই সমানভাবে নিরাপদ ও স্বস্তিতে থাকবে। যতদিন পর্যন্ত সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা না যাবে, ততদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে।