
ঢাকায় ৫৩টি ফ্ল্যাট ও ১৫টি প্লটসহ ৪০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আলোচিত কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের আলাদিনের চেরাগের সন্ধান এবার মিলেছে তার নিজ গ্রামেও। ঢাকার পর এবার বাগেরহাটে তার নামে-বেনামে আরও প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিপুল সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলাহাতা গ্রামে গত চার বছরে এক বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জমি কিনেছেন সহিদুল। নিজের ও স্ত্রীর নামে তিনি অন্তত ৫ হাজার শতাংশ (৫০ একর) জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া সেখানে তার দ্বিতল ও বহুতল একাধিক বিলাসবহুল ভবন রয়েছে।বাবার নামে অর্ধশত কোটি টাকার কলেজ, মামা উপাধ্যক্ষদীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত দুর্গম ফুলাহাতা গ্রামে যেখানে এখনও পৌঁছাতে ইটের সলিং বা কাঁচা রাস্তা পার হতে হয়, সেখানে দূর থেকে চোখে পড়ে বিশাল আয়তনের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এনবিআর কর্মকর্তা সহিদুল প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মোশাররফ হোসেন কলেজ’। কলেজের প্রবেশমুখে রয়েছে বিশাল সাইনবোর্ড ও প্রশস্ত খেলার মাঠ। পেছনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।তবে এই কলেজকে ঘিরেও উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। সহিদুল নিজের প্রভাব খাটিয়ে তার আপন মামাকে, যিনি জীবনে একদিনও শিক্ষকতা করেননি, তাকে এই কলেজের উপাধ্যক্ষ বানিয়েছেন।হাসপাতাল ও মসজিদের নামে জমি সংরক্ষণজমি কেনার পাশাপাশি এলাকায় নিজের প্রভাব ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। ভবিষ্যতে একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য বিপুল পরিমাণ জমি সংরক্ষণ করে রেখেছেন তিনি। এছাড়া স্থানীয় মসজিদ ও এলাকার অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নেও কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন।এলাকাবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্নএলাকার একটি অংশ সহিদুলের এসব কর্মকাণ্ডকে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, হঠাত করে একজন সরকারি কর্মকর্তার এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি চাকরি করে কীভাবে একজন কর্মকর্তা ঢাকা ও গ্রামে মিলিয়ে ৫০০ কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হতে পারেন, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।এর আগে গত ১ জুন সংবাদমাধ্যমে ‘এনবিআরের সহিদুলের ঢাকায় ৫৩ ফ্ল্যাট, ৪০০ কোটির সম্পত্তি’ শিরোনামে খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর তার নিজ এলাকায় চালানো অনুসন্ধানে এই নতুন ১০০ কোটি টাকার সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এলো।