
স্বাধীনতা-পরবর্তী দীর্ঘ পাঁচ দশকে দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে সনাতন পদ্ধতিতে—পুলিশের হাতের ইশারা আর লাঠির ওপর ভরসা করে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার ঢাকঢোল পেটানো হলেও, সড়ক ব্যবস্থাপনার মৌলিক কোনো পরিবর্তন সাধারণ মানুষের চোখে পড়েনি। উল্টো সেই আমলের লুটপাটের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাম্প্রতিক সময়ে চালু করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এখন জনভোগান্তির এক নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীদের মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে চাপিয়ে দেওয়া এই পদ্ধতি হিতে বিপরীত হচ্ছে।### বৈষম্যের শিকার গণপরিবহন ও তিন চাকার বাহননতুন এই ট্রাফিক সিস্টেমে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এর প্রয়োগের ধরন নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এআই প্রযুক্তি মূলত বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলের পাশাপাশি তিন চাকার অটোরিকশা, ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও জরিমানা করার ক্ষেত্রেই বেশি সক্রিয়। সাধারণ চালক ও মালিকদের একাংশের দাবি, এই পদ্ধতি যেন কেবল গরিবের বাহন আর গণপরিবহনকে টার্গেট করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সড়ক সংস্কার বা শৃঙ্খলা না এনে হুট করে প্রযুক্তির এমন একপেশে ব্যবহারকে অনেকেই বৈষম্যমূলক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।### অ্যাম্বুলেন্সের পথরোধ: সংকটে রোগীর জীবনসবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যাচ্ছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে। সাধারণ ট্রাফিক পুলিশ যেখানে অ্যাম্বুলেন্স দেখলে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, সেখানে স্বয়ংক্রিয় এআই সিগন্যাল তা বুঝতে পারছে না। * **সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে বাধা:** কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনমনীয় টাইমিংয়ের কারণে দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকে থাকছে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। * **দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি:** সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে পথেই অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে এবং ঘটে যাচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা।> “একটি যান্ত্রিক সিস্টেম কখনোই মানুষের জীবনের মূল্য বুঝতে পারে না। যেখানে চোখের সামনে অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকছে, সেখানে এই এআই পদ্ধতি পুরোপুরি ব্যর্থ এবং এই মুহূর্তে আমাদের দেশের সড়কের জন্য এটি কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।”> — ক্ষুব্ধ এক ভুক্তভোগী> ### লুটপাটের উত্তরাধিকার ও বর্তমান সংকটবিগত সরকারের মেগা প্রজেক্টের নামে করা ব্যাপক লুটপাটের খেসারত এখনো জনগণকে দিতে হচ্ছে। ডিজিটাল করার নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, তার বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। বর্তমান সময়ে এসে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছাড়া এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যতক্ষণ না দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে এবং অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাচ্ছে, ততক্ষণ এই ত্রুটিপূর্ণ এআই ট্রাফিক পদ্ধতি বাতিল বা স্থগিত রাখাই শ্রেয়।