
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের কিছু নীতিমালা আজও বহাল থাকলেও সময়ের বাস্তবতায় সেগুলো এখন পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—কোনো পুলিশ সদস্য নিজ জেলায় কর্মরত থাকতে পারবেন না। থানা পর্যায় থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত এই নীতি কার্যকর থাকায় হাজারো পুলিশ সদস্য বছরের পর বছর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।পুলিশের কনস্টেবল, এটিএসআই, এএসআই, এসআইসহ নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনেক দূরবর্তী জেলায় বদলি করা হয়। ফলে তারা স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পাশে থাকতে পারেন না। অনেকের বাবা-মা বয়সের ভারে অসহায় হয়ে পড়লেও চাকরির বাধ্যবাধকতায় সন্তান তাদের পাশে থাকতে পারেন না।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির কারণে অনেক পুলিশ সদস্য মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট ও আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। নিম্ন আয়ের অনেক সদস্যের জন্য পরিবার নিয়ে অন্য জেলায় বসবাস করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এতে কর্মক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।বর্তমান বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মানবিকতা ও পারিবারিক স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কেন এখনো পুলিশ সদস্যদের নিজ জেলা বা নিজ রেঞ্জে দায়িত্ব পালনের সুযোগ সীমিত থাকবে?পুলিশ সদস্যদের দাবি, অন্তত নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজস্ব জেলা বা নিজ রেঞ্জে কর্মরত থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে তারা পরিবার, সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে থাকতে পারবেন এবং আরও মনোযোগ ও মানসিক স্বস্তি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি সংশ্লিষ্টদের জোর দাবি—পুরনো ও বাস্তবতাবিবর্জিত এই নীতিমালা দ্রুত সংশোধন করে মানবিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।