
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ ছাড়াই প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া অন্তত ৯৫ জন ভুয়া বিসিএস ক্যাডারের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৯, ৩০ ও ৩১তম বিসিএসে ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে এসব নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।দুদকের তথ্যমতে, এসব নিয়োগে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহারসহ বিধিবহির্ভূত নানা কৌশল প্রয়োগ করা হয়। অনেক প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন না করলেও তাদের নামে জাল সনদ তৈরি করে নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। ৯৫ জনের মধ্যে অধিকাংশই প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারে কর্মরত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।দুদক এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আরও শতাধিক ক্যাডারের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি সংশোধিত এসআরও জারি করে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের পথ খুলে দেয়। এই এসআরও ব্যবহার করেই পিএসসির সুপারিশ ছাড়াই নন-ক্যাডার থেকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়।নিউজ ২৪৭–এর নিজস্ব অনুসন্ধানে ৯৫ ভুয়া ক্যাডারের মধ্যে ৬৮ জনের বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২৯তম বিসিএসে ২৯ জন, ৩০তম বিসিএসে ৩১ জন এবং ৩১তম বিসিএসে ৩৫ জনকে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বিসিএসগুলো ‘এইচ টি ইমাম বিসিএস’ নামে পরিচিতি পায়।দুদক জানিয়েছে, ভুয়া ক্যাডারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।