
চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ফ্যাসিস্ট শক্তির গুলিতে শহীদ হন বিইউপি শিক্ষার্থী শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। তার জমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, বিশেষ করে ‘ভাই ব্যবসা’ করার অভিযোগ—সে বিষয়ে এবার প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মীর স্নিগ্ধ সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “এখন বলুন, আমি কীভাবে ‘ভাই ব্যবসা’ করলাম?”ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে তার একটি সাজানো–গোছানো জীবন ছিল। একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজের উপার্জিত অর্থেই তিনি পড়াশোনার খরচ, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও শখ পূরণ করেছেন। নিজের বাইকসহ জীবনের অনেক স্বপ্নই বাস্তবায়ন করেছেন নিজের আয় থেকে।তিনি বলেন, “এরপর এলো জুলাই ২০২৪। আমি আমার ভাইকে হারালাম।”মীর স্নিগ্ধ উল্লেখ করেন, শত হুমকির মুখেও ‘মুগ্ধর পানি লাগবে’ ভিডিওটি প্রকাশ করে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে বিচারের দাবি জানান, যা জুলাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ভাইয়ের হত্যার বিচার চেয়ে কোর্ট, থানা ও বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে জুতার চপ্পল ক্ষয়ে গেছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।পোস্টে তিনি আরও জানান, ব্যাংক ও অফিসে নিজে উপস্থিত থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ হত্যাকাণ্ডের সব প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। দেশের বাইরে পড়াশোনা করে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা ছেড়ে দেন।মীর স্নিগ্ধ লেখেন, “মুগ্ধর মতো আরও যারা শহীদ হয়েছেন এবং জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, তাদের জন্য কাজ করতে আমি বিনা পারিশ্রমিকে জুলাই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হই।” তিনি জানান, ছাত্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের পরিচিত অনেক মুখ ওই ফাউন্ডেশনে যুক্ত ছিলেন এবং সবাই মিলে সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।ভাইয়ের হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আইনি লড়াই চালিয়ে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয় বুঝতে পেরে তিনি রাজনৈতিকভাবে বিচার নিশ্চিত করার পথ বেছে নেন। সে কারণেই মাত্র ২০ টাকার একটি ফর্ম পূরণ করে রাজনীতিতে যুক্ত হন—কোনো ব্যক্তিগত লাভ বা সুবিধার জন্য নয়, বরং বিচার আদায়ের আশায়।সবশেষে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “এই বাস্তবতার পরও যারা আমাকে ‘ভাই ব্যবসায়ী’ বলেন—তারা আসলে কোন যুক্তিতে এই শব্দ ব্যবহার করেন?”