
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো দল কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। ভারসাম্যের রাজনীতি ও অভিজ্ঞতার গুরুত্বরাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্বের কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য অন্যতম শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিএনপির একটি বড় অংশও তাকে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ও অভিভাবকতুল্য পদের জন্য উপযুক্ত মনে করছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এমন একজন ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আনা প্রয়োজন, যিনি রাজনৈতিক সংকটে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম। সেই বিচারে মির্জা ফখরুলের নাম উঠে আসা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও ক্লিন ইমেজমির্জা ফখরুল এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা, রাজনৈতিক সমন্বয় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি অত্যন্ত মার্জিত, শালীন ও সংযত রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শিক্ষকতা পেশা দিয়ে। পরবর্তীতে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি, যা তার ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে। আইনি প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনএদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণ। এই বৈঠকে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণাসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে।সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদ সচিবালয় থেকে বৈধ ভোটার তালিকা প্রাপ্তির পরপরই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজপথ ও স্থায়ী কমিটির টেবিলেরাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় থাকলেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—তা নির্ভর করছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। দলীয় ফোরামে আলোচনার পরেই বিএনপির হাই কমান্ড পরবর্তী রাষ্ট্রপতির বিষয়ে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।