
:ঢাকা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুই প্রধান প্রতিষ্ঠান—ডিপিডিসি (DPDC) ও ডেসকো (DESCO)-র বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ সাধারণ, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ, যারা কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা বর্তমানে বিদ্যুৎ বিলের এই চরম ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের ইচ্ছেমতো ও অনিয়মিতভাবে মিটারের রিডিং গ্রহণ করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব বা ঈদের ছুটির সময় দীর্ঘ বন্ধের অজুহাতে রিডিং দেরিতে নেওয়া হয়। এর ফলে গ্রাহকদের ব্যবহৃত মোট বিদ্যুৎ নির্ধারিত স্ল্যাব বা ইউনিট সীমা পার হয়ে যায় এবং তাদের ওপর দ্বিগুণ বা তিনগুণ বিলের বোঝা চেপে বসে।গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে যাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল আসত ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা, বর্তমান নিয়মে তাদের বিল আসছে প্রায় ৪,০০০ টাকা। অন্যদিকে, ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা বিল আসা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯,০০০ টাকায়। বিদ্যুৎ বিলের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন সাধারণ মানুষের আয়ের সাথে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।বর্তমান সময়ে একদিকে যেমন এলপিজি গ্যাস ও পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই লাগামহীন ‘ইউনিট ফাঁদ’ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অতিরিক্ত এই বিল পরিশোধ করতে গিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারঘাট কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে, এমনকি অসুস্থ সদস্যদের জন্য নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলছে।এই চরম ভোগান্তি ও লুটেরা পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জনগণের দাবি, বিদ্যুতের এই জটিল স্ল্যাব বা ইউনিট ভিত্তিক বিলিং পদ্ধতি সংস্কার করে একটি নির্দিষ্ট ও সমতাভিত্তিক হার নির্ধারণ করা হোক, যেন সাধারণ মানুষ ডিপিডিসি ও ডেসকোর এই তথাকথিত ‘ইউনিট ফাঁদ’ থেকে রেহাই পায়।