
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার ঘণ্টার মাথায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) জরুরি তলবে ঢাকায় ফিরে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।এর আগে গত ৫ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির নতুন এসপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনের আলোকে তিনি ৬ জুলাই বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার ঘণ্টা পরই আইজিপির জরুরি নির্দেশে তাকে ঢাকায় ফিরে যেতে হয়।এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বদরুল আলম মোল্লার একটি কথিত মোবাইল ফোনালাপের অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে পুলিশ সুপার পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের চুক্তির দাবি করা হয়। সেখানে আরও বলা হয়, নিয়োগের পর অর্থ পরিশোধ না করায় ওই অডিও ফাঁস করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বদরুল আলম মোল্লা বলেন, তার বদলি সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ এবং এতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি। ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডকে তিনি ‘বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর’ উল্লেখ করে দাবি করেন, তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এটি প্রচার করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, একটি জাতীয় দৈনিকের ঢাকা অফিসের এক সাংবাদিকের সঙ্গে তার কথোপকথনের অংশবিশেষ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।বর্তমানে তিনি ঝালকাঠির দায়িত্বে আছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বদরুল আলম মোল্লা জানান, তাকে আপাতত ‘ওয়েটিং ফর পোস্টিং’ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে কোথায় পদায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।