
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রায় ২ হাজার ৭৭৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ’ প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থাপনায় ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যাওয়ায় এর গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ-কাম-সড়ক প্রকল্পের কাজ এখনো শতভাগ সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যেই খালের মুখে নির্মিত রেগুলেটরের বিমে ফাটল এবং পানি প্রতিরোধে ব্যবহৃত কয়েকটি কংক্রিট ব্লকে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে পুরোনো ভবনের ভাঙা ইট, রাবিশ, পলেস্তরা ও নিম্নমানের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল একনেক সভায় ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন পায়। ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে একাধিক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। একইসঙ্গে ব্যয়ও বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৭৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়, যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৪৬৯ কোটি টাকা বেশি।এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও তদারকি থাকলে বারবার সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি প্রয়োজন হতো না। যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জমি অধিগ্রহণ ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত জটিলতাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।প্রকল্পটির সার্বিক তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী রাজিব দাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনি নিউজ করেন, এই পর্যন্ত নিউজ করে কেউ আমার কিছু করতে পারেনি। তাই আপনার ইচ্ছা হলে আপনার মতো নিউজ করেন। এতে আমার কোনো ক্ষতি নেই।”এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় ও জোয়ারপ্রবণ এলাকায় নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধ ও সড়ক প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। এ ধরনের অবকাঠামো দুর্বল হলে তা শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় নয়, ভবিষ্যতে নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পের নির্মাণমান, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন কারিগরি ও আর্থিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।