
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় কথিত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা ও পুলিশি তদন্তের পর অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।রোববার (২১ জুন) পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ।থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩৮৪, ৪২০ ও ৫০৬ ধারাসহ সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০/৯২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে চমেক হাসপাতালকেন্দ্রিক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, চালকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ উঠে আসে।এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ৮ জুন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেয়।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ জুন চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেইট এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মানববন্ধনে হামলার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। ওই ঘটনায় দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।তদন্তে আরও উঠে এসেছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। পাশাপাশি বাইরের অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা দেওয়া, চালকদের হুমকি দেওয়া এবং ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাসে সাইরেন ও নীল বাতি ব্যবহার করে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চালানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।মামলায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগও সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের দাবি, মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।