
ঢাকা খামারবাড়িস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এ এ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির মামলার আসামিদের আশ্রয় প্রদান এবং বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমানে এই কর্মকর্তার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।অনুসন্ধানে জানা যায়, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো: আব্দুর রহিমের সাথে একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে বিশেষ সখ্যের কারণে মাসুম বিল্লাহ খামারবাড়িতে নিজেকে স্বঘোষিত ‘সেকেন্ড ডিজি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।### ১. দুদকের চার্জশিটভুক্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আগলে রাখার অভিযোগখামারবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লুটপাট ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং: সিআর-৯০/২০২২)। এই মামলার প্রধান আসামি, সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে রয়েছেন।তবে এই মামলার ২ নং আসামি উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক অলিউল্লাহ প্রধান (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কর্মরত) এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মূল হোতা প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সাবেক ক্যাশিয়ার মো: জাহিদ হাসান—উভয়েই গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হওয়া সত্ত্বেও মাসুম বিল্লাহর ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।### ২. বদলি আদেশকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’: লাখ টাকার বিনিময়ে খামারবাড়িতেই অবস্থানবিগত ১৯/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে খামারবাড়ির ক্যাশিয়ার মো: জাহিদ হাসানকে ময়মনসিংহে এবং একই শাখার ক্যাশ সরকার মো: হাবিবুর রহমানকে চাঁদপুরে বদলি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মাসুম বিল্লাহর প্রভাবে তাদের এই বদলি আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খামারবাড়িতেই বহাল রাখা হয়েছে।এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগপন্থী বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন এবং রমরমায় বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে এই স্বঘোষিত ‘সেকেন্ড ডিজি’র বিরুদ্ধে।এই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং তারা অতি দ্রুত এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।