
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীর কয়েকটি স্পা সেন্টার, গেস্ট হাউস এবং সিসা লাউঞ্জকে কেন্দ্র করে নারী পাচার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যাপক চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো, এসব কর্মকাণ্ডে মদদদাতা হিসেবে অভিযুক্ত ডিএমপির (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এখনো তার পদে বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।মিডিয়ার ধারাবাহিক প্রতিবাদ, তবুও প্রশাসন নীরবঅনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘দুর্নীতি ডায়েরী’, ‘অ্যান্টি করাপশন’ এবং ‘ক্রাইম অফ টোয়েন্টিফোর মিডিয়া’ সহ একাধিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ ধারাবাহিক প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরলমনা তরুণীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এনে জিম্মি করা এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার মতো ভয়ংকর অপরাধের চিত্র এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এতগুলো গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পরও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।বহাল তবিয়তে অভিযুক্ত ডিএমপি কর্মকর্তাস্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গুলশান-১ এলাকার এই অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা মাসোহারা দেওয়া হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চক্রকে সরাসরি সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডিএমপির একজন কর্মরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একাধিক পেজে তার নাম ও সম্পৃক্ততা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পরও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক বা বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি এখনো ডিএমপিতে বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।তীব্র নিন্দা ও এলাকাবাসীর ক্ষোভঅভিজাত ও সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত গুলশান-বনানী এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে দিনের পর দিন এমন অনিয়ম চলতে থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীদের মতে, গণমাধ্যমে প্রকাশ্য প্রতিবাদের পরও ব্যবস্থা না নেওয়া প্রকারান্তরে অপরাধীদের পুরস্কৃত করার শামিল।তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন:অবিলম্বে অভিযুক্ত ডিএমপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের একটি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে।তদন্ত চলাকালীন তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত, যেন তিনি প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন।গুলশান-বনানীর বিতর্কিত স্পা ও গেস্ট হাউসগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে মানবপাচার ও অপরাধের আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দিতে হবে।একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে এবং পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে এই ‘মাসোহারা সিন্ডিকেট’ ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।