
রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য এবং অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার তথ্য গোপন, আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের উল্টো হয়রানি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই তিন কর্মকর্তার দুর্নীতির আদ্যোপান্ত নিচে তুলে ধরা হলো:### **১. গুলশান থানার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান (বিপি: 8513154210): ফ্ল্যাট প্রতারকদের ঢাল ও মাসোহারা সিন্ডিকেট**রাজধানীতে একটি ডেভেলপার চক্রের জালিয়াতি ঢাকতে এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দমনে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে গুলশান থানার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। * **মূল অপরাধ:** জুবায়ের হাসান নামের এক ডেভেলপার প্রতিনিধি সাততলা ভবনের কথা বলে ফ্ল্যাট বিক্রি করলেও বাস্তবে মাত্র পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণ করে সুনিয়া বেগম ও টুটুলসহ একাধিক ক্রেতার সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করেন। * **কর্মকর্তার ভূমিকা ও ঘুষ গ্রহণ:** এই জালিয়াতি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা ধামাচাপা দিতে ডেভেলপার পক্ষ উল্টো ভুক্তভোগীদের নামে ঢাকা সিএমএম কোর্টে মিথ্যা সিআর (CR) মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এই চাপকে পুঁজি করে বিবাদী পক্ষের কাছ থেকে ‘চাপ কমানোর আশ্বাস’ দিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। * **অন্যান্য অপরাধ:** প্রভাব খাটিয়ে নিজের পূর্বের অপরাধ থেকে পার পেয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ বিপুল সম্পদ অর্জন, বিভিন্ন স্পা ও মাদক সিন্ডিকেট থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া এবং পুলিশি অভিযানের আগে তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।### **২. ডিবি ইন্সপেক্টর মোঃ রাসেল সরোয়ার (বিপি: 7704102380): ৩ লাখ টাকায় ডিবির তদন্ত বিকেন্দ্রীকরণ ও নথি জালিয়াতি**সাবেক সরকারের প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া ২৫টি মামলার আসামি ও শীর্ষ প্রতারক শামসুজ্জামান ওরফে জামানকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন রমনা ডিবি জোনের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ রাসেল সরোয়ার। * **মূল অপরাধ ও গোপন চুক্তি:** প্রতারক জামানের বিরুদ্ধে রমনা জোনে দায়ের হওয়া দুটি সিআর মামলা (মামলা নং- ৬৩/২০২৬ এবং৬৪/২০২৬) ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ইন্সপেক্টর রাসেল সরোয়ার ৩ লক্ষ টাকার একটি গোপন চুক্তি করেন। * **প্রমাণ গায়েব ও মিথ্যা রিপোর্ট:** পর্যাপ্ত চেক, উকিল নোটিশ, ভিডিও ফুটেজ এবং উপস্থিত সাক্ষী থাকার পরও, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাদীর অনুপস্থিতিতেই আদালতে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তিনি। * **সাক্ষীদের সাদা কাগজে সই:** ৪ মাস ধরে মামলা ফাইলবন্দী রাখার পাশাপাশি, সাক্ষীরা ডিবির কার্যালয়ে সাক্ষ্য দিতে গেলে তাদের জবানবন্দী নথিবদ্ধ না করে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তড়িঘড়ি করে বিদায় দেওয়ার মতো ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।### **৩. নিউমার্কেট থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন খান (বিপি: 7804099150): ৫ লাখ টাকায় কুখ্যাত ‘র্যাব জামানকে’ অব্যাহতি**ক্ষমতার অপব্যবহার, চিহ্নিত অপরাধীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং ব্যাপক চাঁদাবাজির মাধ্যমে ডিএমপিতে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন খান। * **অপরাধীকে আইনি সুরক্ষা:** সিসিটিভি ফুটেজ ও অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও, ৪২০, ৪০৬ ও ৫০৬ ধারায় দায়ের হওয়া তিনটি সুনির্দিষ্ট মামলা থেকে কুখ্যাত প্রতারক শামসুজ্জামান ওরফে ‘র্যাব জামানকে’ প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অব্যাহতি (ক্লিন চিট) দিয়েছেন ওসি আনোয়ার। * **বিগত আমলের প্রভাব ও ঔদ্ধত্য:** বিগত সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা অতীতে অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর কারিগর হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি থানায় অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে কটূক্তি করে দম্ভোক্তি ছড়ান যে, কেউ তার কিছু করতে পারবে না।### **তীব্র ক্ষোভ ও আইনি ব্যবস্থার দাবি**সাবেক বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে ও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করা প্রতারক জামান এবং বিভিন্ন প্রতারক চক্রকে ডিএমপির এই তিন কর্মকর্তা যেভাবে প্রকাশ্য আইনি ঢাল তৈরি করে দিচ্ছেন, তাতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল মনে করছেন, এদের মতো অসাধু কর্মকর্তাদের কারণেই বর্তমান সরকারের পুলিশ সংস্কার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগীরা ডিবি প্রধান, ডিএমপি কমিশনার এবং আইজিপির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।