
ফেসবুকে উচ্চ বেতনে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।পিবিআই সূত্র জানায়, একটি সংঘবদ্ধ সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্র গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামাল বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২২ ধারায় মামলা দায়ের করেন।মামলার তদন্তভার স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১ মে প্রতারকচক্রের সক্রিয় সদস্য স্বপন কুমার রায়কে গ্রেফতার করেন।পরে স্বপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ মে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতাসহ আরও দুইজন—মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) ও বিকাশ ডিএসও মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেফতারকৃতরা একটি আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া সফলতার ভিডিও ও পোস্ট বুস্ট করে অস্ট্রেলিয়ায় কম খরচে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত।এছাড়া, পলাতক আসামী প্রাণ ইসলামের নির্দেশনায় খাইরুল ইসলাম ‘আরিফ মন্ডল’ নামে ছদ্মবেশে ভুয়া ভিডিও তৈরি করতেন। অন্যদিকে জাবেদুল ইসলাম বিকাশ ডিএসও হিসেবে আত্মসাৎকৃত অর্থ ক্যাশ আউট ও গোপন লেনদেনে সহায়তা করতেন।পিবিআই জানায়, চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে। গ্রেফতারকৃত তিনজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান।