
গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানাধীন মেঘডুবি (কড়ইটেক) এলাকায় চা ও পান দোকানি নারী শেফালী বেগম কুলসুম (৪৬) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা ও একটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।পুলিশ জানায়, শেফালী বেগম কুলসুম পূবাইলের মেঘডুবি এলাকায় নিজ বাসায় থেকে চা-পানের দোকান পরিচালনা করতেন এবং তিনটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।ঘটনার পর নিহতের মেয়ে ময়না আক্তার স্মৃতি বাদী হয়ে পূবাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলা রুজুর পর পূবাইল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি দল ছায়া তদন্ত চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে শনাক্ত করে। পরে গত ৮ মে দিবাগত রাতে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানা এলাকা থেকে মো. কামরুজ্জামান (৩৫), মো. আমজাদ হোসেন (৩০) ও মো. আফজাল (৩৩) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।পরে মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই সঞ্জিত বিশ্বাসকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তারা এওয়ান (A1) পলিমার ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং নিহতের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নিতেন। পাওনা টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে শেফালী বেগমের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করে।ঘটনার আগের দিন রাতে আসামি মনোয়ার নিহতের দোকানে গিয়ে জানায়, তার এক বান্ধবী আসবে এবং তারা সেখানে সময় কাটাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরদিন ফল, পানীয়, বিস্কুট, চানাচুর ও ঘুমের ওষুধ নিয়ে আসে তারা।একপর্যায়ে আসামি কামরুজ্জামান বাঁশের লাঠি দিয়ে শেফালীর মাথায় আঘাত করলে তিনি চিৎকার দেন। পরে মনোয়ার পাশের কক্ষ থেকে একটি দা এনে খাটের ওপর উঠে শেফালীর মুখ, হাত ও পেটে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।হত্যার পর আসামিরা ঘর তল্লাশি করে নগদ ৩ হাজার ২৫০ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা বাথরুমে ধুয়ে রেখে যায় তারা।গত ৯ মে গ্রেফতার আসামি কামরুজ্জামান ও আমজাদ হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি আফজাল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।