
মায়ানমার সীমান্তঘেঁষা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুর্গম এই অঞ্চলে গত দুই সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ পাড়ায় শিশু-কিশোররা জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়ভাবে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।কুরুকপাতায় মানবিক বিপর্যয়উপজেলা শহর থেকে কয়েক ঘণ্টার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় কুরুকপাতা ইউনিয়নে। এখানে ১৩৫টি পাড়ায় মূলত ম্রোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিটি পাড়ায় হামের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।অনাথ আশ্রমে ভয়াবহ পরিস্থিতিইয়াংরিংপাড়ার ‘প্রেন্নই হোস্টেল’ নামের একটি অনাথ আশ্রমে প্রায় ১৫০ শিশুর মধ্যে অন্তত ৬০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৮ বছর বয়সী চাংমুম ম্রো শ্বাসকষ্ট ও পেটে ব্যথায় মারা যায়। দুর্গমতার কারণে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় এই মৃত্যুর ঘটনা আরও আতঙ্ক বাড়িয়েছে। পরবর্তীতে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের আশ্রম থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি প্রায় খালি হয়ে গেছে।চিকিৎসা পরিস্থিতিআলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মোহাম্মদ হাসান জানান, গত দুই সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৬১ জন রোগী হাসপাতালে এসেছে। গুরুতর অবস্থায় থাকা কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।টিকাদানে চ্যালেঞ্জস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার সীমান্তের ওপারে জুম চাষে চলে যাওয়ায় শিশুরা টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, কিছু এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার প্রয়োজন হয়।‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরুপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার থেকে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০ বছরের নিচের অসুস্থ শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনবেন।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা না গেলে এই প্রাদুর্ভাব আরও বড় আকার নিতে পারে।