
পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) জামিল হাসান-এর বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সামনে আসে।অভিযোগ অনুযায়ী, উজিরপুর উপজেলা এলাকায় তিনি ভূস্বামী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। সেখানে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করে বিভিন্ন প্রকল্প গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে।সূত্র জানায়, প্রায় ৪০ একর জমির ওপর একটি রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এছাড়া ৩০ বিঘা জমির ওপর নিজ পৈতৃক বাড়ি নতুন করে গড়ে তুলেছেন। একই এলাকায় অন্তত ৩৬ বিঘা জমির ওপর গরুর খামারও রয়েছে তার। রাজধানী ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট ও একাধিক গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক বলেও অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, মাত্র চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। এ কারণে তাকে বরিশাল থেকে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এদিকে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রকাশ্যে অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহাকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, আইন ও বিধি অনুসরণ করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অনুসন্ধান শেষে প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।জানা যায়, বিসিএস ২০তম ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগদান করেন জামিল হাসান। কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি এবং ফরিদপুরে দীর্ঘ সময় কর্মরত থাকাকালে বেশ আলোচিত হন।২০২১ সালে র্যাব-৮-এর কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ-এর জমি কেনার বিষয়েও তদারকির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান বলে জানা গেছে।অভিযোগ রয়েছে, নিজ এলাকা উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে বিপুল জমি ক্রয় করে রিসোর্ট নির্মাণের পাশাপাশি মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। একইসঙ্গে হাবিবপুর গ্রাম এলাকায় ৮ থেকে ১০ একর জমির ওপর রিসোর্টের আদলে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন।এছাড়া ওই এলাকায় ১০ থেকে ১২ একর জমিতে গরুর হাট এবং বড় আকারের খামার গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, উল্লিখিত সব তথ্য অভিযোগ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। বিষয়টি নিয়ে দুদকের চলমান তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।