
২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময়ের মধ্যে অনেকেই ভুয়া কাগজপত্র, এমনকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে এএসআই, এসআই, ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮৮ ব্যাচের ওসি মনির, যিনি কেরানীগঞ্জের সাবেক ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার বিরুদ্ধে অতীতে ডাকাতি, নারী ও মদ সরবরাহসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রমনা থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি নাকি বহু নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।এছাড়া রমনা থানার ওসি (তদন্ত) নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধেও নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর লাশবাহী গাড়িতে গুলি করার ঘটনার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার কর্মজীবনে রমনা থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর শাহবাগ, হাজারীবাগসহ বিভিন্ন থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত আছেন বলে জানা যায়। তার বর্তমান অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।রমনা থানার ফাঁড়ি ইনচার্জ মফিজের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ডিআইজি হাবিবের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা ও জিডি তৈরি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।কাপাসিয়া থানার সাবেক ওসি রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ইদ্রিস হত্যা মামলার আসামিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জ থানায় ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেও নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বলা হয়, তিনি হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং উত্তরা এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন।একই থানার সাবেক কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আলমচাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কাপাসিয়া থানায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং পরবর্তীতে মির্জাপুর থানায় দায়িত্ব পালনকালেও একই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি ঢাকার এয়ারপোর্টে এপিবিএন-এ কর্মরত আছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।ঢাকার গুলশান এলাকার এডিসি আহাদের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি মতিঝিলের ডিসি পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেও নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে।রমনা থানার সাবেক ডিসি আশরাফুল ইসলাম, যার বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জে, বর্তমানে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার নোয়াখালীতে সংযুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধেও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার সম্পদের উৎস তদন্তে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।এছাড়া সিআইডি দক্ষিণে কর্মরত ইন্সপেক্টর শাহরিয়ার এবং মনজুরুল হক মনজুর বিরুদ্ধেও মামলা বাণিজ্য ও তদন্তে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে, যা সিআইডির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।নতুন করে আরও অভিযোগ উঠেছে সিআইডি দক্ষিণের ইন্সপেক্টর শাহজালাল মুন্সীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে মিথ্যা মামলাকে সত্য এবং সত্য মামলাকে মিথ্যায় রূপান্তর করতেন। এছাড়াও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের খুশি করতে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করতেন বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।সর্বোপরি, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।