
জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়া ১২৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। একই সঙ্গে এসব শিক্ষককে সরকার থেকে নেওয়া বেতন-ভাতা বাবদ ২৯ কোটি টাকার বেশি ফেরত দিতে বলা হয়েছে।ডিআইএর তদন্তে জানা গেছে, গত বছরের শেষ ছয় মাসে পরিচালিত অনুসন্ধানে এসব জাল সনদের তথ্য সামনে আসে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করে সংস্থাটি এ তথ্য পায়। পরে গত রোববার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খুলনার পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত সহকারী শিক্ষক (গণিত) রাবেয়া বেগম (ছদ্মনাম) এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছিলেন। কিন্তু তার জমা দেওয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে ডিআইএর তদন্তে। ফলে সরকারের কাছ থেকে নেওয়া বেতন-ভাতা বাবদ ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা তাকে ফেরত দিতে হবে।ডিআইএ বলছে, রাবেয়া বেগমের মতো আরও ১২৭ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সনদ জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এসব শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। তাই তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত আদায় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে তদন্তে প্রায় ২ হাজার জাল সনদধারী শিক্ষককে শনাক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার ঘটনা রোধে নজরদারি আরও জোরদারের প্রয়োজন বলেও মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।