
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্রচারে বাধা, প্রচারের মাইক ও যানবাহন ভাঙচুর এবং প্রচারকারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীর কর্মী–সমর্থকদের বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মারধরের ঘটনায় আহত যুবকের নাম আজিজুল ইসলাম (২৬)। তিনি কেন্দুয়া পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমানের ছেলে।স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ‘ঘোড়া’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি কেন্দুয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য।স্থানীয় বাসিন্দা, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সান্দিকোনা বাজার এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন আজিজুল ইসলাম। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক পেছন থেকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা প্রচারের মাইক ও সিএনজি ভাঙচুর করে এবং আজিজুল ইসলামকে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।আহত আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রাইজোরা গ্রামের রুবেল মিয়া, খিদিরপুর গ্রামের মোতালেব মিয়া, ডাউকি গ্রামের জুয়েল মিয়াসহ প্রায় ১৫ জন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে রড দিয়ে মারধর করে তাকে আটকে রাখা হয়।এদিকে, কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের রামপুর এলাকার চন্দনকান্দি গ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আশুজিয়া ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সম্পাদক মতি মিয়া, স্থানীয় কাশেম মিয়া ও সুজন মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে চন্দনকান্দি গ্রামে ‘ঘোড়া’ প্রতীকের লিফলেট বিতরণের সময় ইউনিয়ন যুবদল নেতা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ১০–১৫ জনের একটি দল স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় লিফলেটের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের পকেট থেকে টাকা ঢুকিয়ে ‘অর্থ বিতরণ’ দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সময় সুমন মিয়াকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে গেলে শনিবার কেন্দুয়া থানার এসআই নুরুল ইসলামের সামনেই অভিযুক্ত সুজন মিয়া, কাশেম ও শ্রমিকদল নেতা মতি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করছে।