
প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং বিচার, মানবিকতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলটির ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে এই প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রত্যয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে প্রণীত এ ইশতেহারে পাঁচ ভাগে মোট ৫১ দফা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবায়নের জন্য ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।ইশতেহারে ‘লুটপাট নয়, উৎপাদন’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে চার কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র মেরামতের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।অনুষ্ঠানে ইশতেহার ঘোষণা করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্বের সঙ্গে বলতে পারবে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।তিনি আরও বলেন, “যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না করতে পারলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল করা সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”ইশতেহার ঘোষণার আগে কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়, এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি অংশ নিচ্ছে এবং এটিই তার নেতৃত্বে ঘোষিত প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার।