
অর্থ লুটপাটের তথ্য আড়াল করতে এনআরবিসি (নন-রেসিডেনসিয়াল বাংলাদেশি কমার্শিয়াল) ব্যাংকে ভয়ংকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বলে ফরেনসিক অডিটে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত ফরেনসিক অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সিস্টেম থেকে প্রায় ১১ লাখ তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র গোপন করা, হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি আড়াল করা এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের তথ্য লুকানোর উদ্দেশ্যে এসব তথ্য মুছে ফেলা হয়। ২০১৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ফরেনসিক অডিটে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আদনান ইমাম এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ‘কেওয়াইসি’ (Know Your Customer) ফরম ছাড়াই প্রায় ১২ হাজার ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকটি ২০২৫ সালের জুন শেষে খেলাপি ঋণের হার ২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ দেখালেও ফরেনসিক অডিটে প্রকৃত খেলাপি ঋণের হার ৩৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ঘোষিত তথ্যের চেয়ে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।অডিটে আরও দেখা গেছে, বহু ঋণ হিসাব খেলাপি হওয়ার পরও সেগুলোকে ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বা নিয়মিত ঋণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুয়া ঠিকাদার নিয়োগ এবং পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ২১৭ কোটিরও বেশি টাকার ঋণ বিতরণের তথ্যও উঠে এসেছে।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একটি ব্যাংকের আইটি সিস্টেম থেকে এত বিপুল পরিমাণ তথ্য মুছে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দেশের ব্যাংক খাতে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। তাদের মতে, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থ পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।