
এ যেন ‘শর্ষের মধ্যে ভূত’। সাধারণ মানুষ প্রতারিত হলে যেখানে শেষ ভরসা হিসেবে পুলিশের কাছে ছুটে যান, সেখানে খোদ এএসপি সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠেছে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহকর্মী এক নারী বিসিএস ক্যাডারের কাছ থেকে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের বিরুদ্ধে আদালত বিচার কার্যক্রম শুরু করেছেন। পুলিশের একাধিক তদন্তেও ইতিমধ্যেই ঘটনার সত্যতা মিলেছে।আদালতে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক নাজমিন আক্তার ইভা আসামি সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই বিচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মুসলেহ উদ্দিন জসিম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আগামী পহেলা জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে, যেদিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এছাড়া আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে আরও বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।যেভাবে প্রেমের সম্পর্ক ও প্রতারণামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মনতলা গ্রামের মৃত মো. হাবিব উল্লাহর ছেলে মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্স (৩৬) ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এসি/এএসপি) হিসেবে যোগদান করেন। একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুর থানার মালিবাগের স্বপ্না বেগম (ছদ্মনাম) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।একই ব্যাচের কর্মকর্তা হওয়ায় একপর্যায়ে সোহেল উদ্দিন প্রিন্স তার সহকর্মী স্বপ্নার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে বিয়ে করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি স্বপ্নার কাছ থেকে মোট ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।বিচারের মুখোমুখি হলেও বহাল পদে:একদিকে দণ্ডবিধি আইনে আদালতের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, অন্যদিকে পুলিশের নিজস্ব তদন্তেও অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এতো গুরুতর অভিযোগ ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকার পরেও এসি সোহেল উদ্দিন প্রিন্স এখনো স্বদাপদেই বহাল রয়েছেন।এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং একজন বিসিএস কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে আরও কোনো রহস্য আছে কি না, তা নিয়ে এখন আইনি অঙ্গন ও সচেতন মহলে নানা আলোচনা চলছে।