
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিলেও অর্থনীতিতে নতুন চাপ ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেড সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই থেকে পুরোপুরি নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করা হয়েছে।তবে পরিকল্পনা কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন, বেতন বাড়লেও বাস্তবে এর সুফল মিলবে না। তাঁদের আশঙ্কা, বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম দেড় থেকে দুই গুণ বেড়ে যেতে পারে। তাঁদের মতে, বেতন বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বেশি জরুরি।কমিশন সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখেই এ প্রস্তাব করা হয়েছে। অনলাইন জরিপে দুই লাখ ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ ৮৫ হাজার কোটি টাকা, যা নতুন কাঠামো চালু হলে দ্বিগুণের বেশি হতে পারে।অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি কমার দাবি থাকলেও বাস্তবে পণ্যের দাম কমেনি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, রাজস্ব সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ ছাড়া এ সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ।বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে বড় ধরনের মজুরি বৃদ্ধি টেকসই হবে না।অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।সব মিলিয়ে, নতুন পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তি দিলেও এটি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে কি না—সে প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।