
দেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’-এর যাত্রী সেবা ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সাধারণ ও বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের মধ্যে। লক্ষাধিক টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা তো পাচ্ছেনই না, উল্টো পদে পদে হয়রানি, দুর্ব্যবহার এবং নোংরা পরিবেশের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমনকি বিমানবন্দরের রানওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি।অনুসন্ধানে এবং ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগে বিমানের ভেতরের একাধিক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম সামনে এসেছে:### ১. গ্রাউন্ড সার্ভিস ও ড্রাইভারদের অনভিপ্রেত ব্যবহারইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর যাত্রীদের প্লেন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য যে অভ্যন্তরীণ বাস সার্ভিস রয়েছে, তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। বিশেষ করে বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা যেখানে ৪০-৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১-২ লাখ টাকা পর্যন্ত টিকিট কেটে ভ্রমণ করেন, সেখানে গ্রাউন্ড স্টাফ ও বাস ড্রাইভারদের আচরণ চরম আপত্তিকর এবং সৌজন্যতাবহির্ভূত।### ২. রানওয়ের অপরিচ্ছন্নতা ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঝুঁকিহযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিমানের রানওয়ের বিভিন্ন অংশ অপরিষ্কার এবং অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। রানওয়েতে এ ধরনের বর্জ্য বা অপরিচ্ছন্নতা যেকোনো মুহূর্তে উড়োজাহাজ ল্যান্ডিং বা টেক-অফের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। শত শত যাত্রীর জীবনকে ১০০% ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রাখা হলেও বিমান কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।### ৩. খাবার ও শিশুতোষ উপহারে অনিয়মবিমানের ভেতরে সেবার মান এতটাই নিচে নেমেছে যে, ক্রুরা এখন প্যাকেটে করে নিম্নমানের খাবার বিতরণ করছেন। নিয়ম অনুযায়ী ফ্লাইটে ভ্রমণকারী শিশুদের জন্য বিশেষ উপহার (কিডস গিফট) বরাদ্দ থাকলেও, ক্রু ও দায়িত্বরত স্টাফরা তা বাচ্চাদের না দিয়ে নিজেদের বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।### ৪. ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিকল এসি, গরমে যাত্রীদের ভোগান্তিরানওয়েতে বা বোর্ডিংয়ের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়োজাহাজের এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) বন্ধ রাখা হয়। বিশেষ করে গরম ও বর্ষার দিনে এসি না চলায় বদ্ধ কেবিনের ভেতরে যাত্রীরা চরম শ্বাসকষ্ট ও গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকেন। বারবার অনুরোধ করলেও বিমান কর্মীরা এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দেন না।### ৫. ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণ অংশ ও কাঠামোগত অবহেলাবিমানের ভেতরের অনেক অংশের সিট, প্যানেল বা ফিটিংস ভাঙা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের এই ভয়াবহ অভাব দেখে যাত্রীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—আকাশপথে যদি কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তার দায়ভার আসলে কে নেবে?### নেপথ্যে সিভিল এভিয়েশন ও বিমান কর্তৃপক্ষের ‘সিন্ডিকেট’অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সিভিল এভিয়েশন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি অসাধু চক্র এই যাত্রী সেবার বাজেট লুটপাট করে নিজেদের পকেট ভরছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবার টাকা ভাগাভাগি হয়ে চলে যাওয়ায় জাতীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্সটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।যাত্রী সাধারণ অনতিবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে বিমানকে আধুনিক, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করার জন্য উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছেন।