
সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তাধীন থাকা অবস্থায়ই মো. মিজানুর রশীদকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।সূত্র জানায়, তিনি আগে মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ৪ মার্চ তাকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিনই আবার প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা তার আগের পদের চেয়ে উচ্চ।বিমানের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন একজন কর্মকর্তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় তারা বিস্মিত।অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরের একটি প্রভাবশালী মহলের তদবিরেই তিনি এসব দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে এক অবসরপ্রাপ্ত পরিচালকের নামও আলোচনায় এসেছে, যিনি নিজেকে এক মন্ত্রীর আত্মীয় বলে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।এদিকে মিজানুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রশীদ। তার দাবি, বিভাগীয় মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন এবং দুদকও তাকে অব্যাহতি দিয়েছে।দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে সফটওয়্যার কেনা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সম্প্রতি সেই তথ্য দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।