
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় তদন্তে ত্রুটি রয়েছে বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় লাঠি হাতে ছয়জন পুলিশ সদস্য থাকলেও অভিযোগ আনা হয়েছে মাত্র একজনের বিরুদ্ধে।আইনজীবী আদালতে বলেন, আবু সাঈদের গলা থেকে কোমর পর্যন্ত পরা কালো টি–শার্টের জব্দ করা অংশে কোনো ছিদ্র ছিল না—এ বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই স্বীকার করেছেন। ফলে গুলির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে—এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।ফৌজদারি আইনে লাঠিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের হাতে একটি লাঠি ছিল এবং তিনি সেটি দিয়ে পুলিশের আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন—এ বিষয়টি জেরায় তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন।তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সিভিলিয়ান হিসেবে ধরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–এর এখতিয়ারে আনা আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক, সেটি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে আবু সাঈদ যে একজন বীরত্বপূর্ণ আন্দোলনকারী ছিলেন এবং রাষ্ট্র সেই বীরত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে—এ বিষয়ে তার কোনো দ্বিমত নেই।এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মঈনুল করিম বলেন, এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, পুলিশ ও বিশেষজ্ঞসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।তার দাবি, সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা গেছে। তাই রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে।