
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ দমনে অসামান্য ও ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ টানা ১০ বারের মতো শ্রেষ্ঠ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন ওসি হাফিজুর রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুর মডেল থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ৮ সপ্তাহের (আন্দাজ দুই মাস) ব্যবধানে প্রায় ১৮০০ থেকে সাড়ে ১৮০০ জন আসামিকে আইনের আওতায় এনে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।তার এই গৌরবময় সাফল্যে ক্রাইম ২৪ মিডিয়া (Crimeof24Media) পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।উত্তরা পশ্চিম ও গুলশানে অপরাধ দমনঅনুসন্ধানে জানা যায়, ডিএমপিতে যোগদানের পর থেকেই ওসি হাফিজুর রহমান তার পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়ে আসছেন। উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়িত্ব পালনের সময় তৎকালীন ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যখন পুরো এলাকা উত্তাল ছিল, তখন তিনি দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চুরি-ডাকাতি রোধ করে জনগণের জানমালের হেফাজত করেন তিনি।উত্তরা পশ্চিম থানায় সফল ভূমিকার পর তাকে গুলশান থানায় পাঠানো হয়। গুলশানে যোগ দেওয়ার পর তিনি নারী পাচার, মাদক ও ইয়াবার ব্যবসা, অবৈধ মদের ব্যবসা এবং স্পা সেন্টারের আড়ালে চলা অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। অত্যন্ত কঠোর হস্তে তিনি গুলশানের এসব অপরাধ চক্র ও ছিনতাইকারীদের দমন করে পুরো এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনেন।হাজারীবাগে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলগুলশানে অপরাধের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ধ্বংস করার পর তৎকালীন ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে এবং ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের বিশেষ দায়িত্বে তাকে হাজারীবাগ থানায় বদলি করা হয়। হাজারীবাগের মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাস দমনের এক বিশেষ মিশন নিয়ে তিনি সেখানে কাজ শুরু করেন। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে হাজারীবাগকে অপরাধমুক্ত এলাকায় পরিণত করেন এবং জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে বহু চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।বর্তমান কর্মস্থল মিরপুর থানা ও অভাবনীয় রেকর্ডহাজারীবাগে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর ডিএমপি কর্তৃপক্ষ তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ঢাকার অন্যতম বড় ও অপরাধপ্রবণ এলাকা মিরপুর মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দেয়। মিরপুরের মতো জনবহুল এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি মাত্র ৮ সপ্তাহে প্রায় ১৮০০-এর বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করেন, যাদের অনেককেই ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছেন।সাবেক ফ্যাসিস্ট আমল বনাম বর্তমান জনবান্ধব policeসংশ্লিষ্টরা এবং সাধারণ জনগণ মনে করছেন, পুলিশের সাবেক বিতর্কিত অফিসারদের নেতিবাচক ভাবমূর্তি কাটিয়ে বর্তমানের ওসিরা যে জনবান্ধব ও কার্যকর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন, ওসি হাফিজুর রহমান তার অন্যতম সেরা উদাহরণ। সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আমলের প্রশ্নবিদ্ধ, একচ্ছত্র ও দমনমূলক পুলিশি কার্যক্রমের সাথে বর্তমান ওসিদের কাজের ব্যবধান এখন আকাশ-পাতাল।ক্রাইম ২৪ মিডিয়া ওসি হাফিজুর রহমানের এই গৌরবময় কাজের ধারাকে স্যালুট জানায় এবং তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের আরও সাফল্য কামনা করে। তাকে দেখে পুলিশের অন্যান্য অফিসার ইনচার্জরাও (ওসি) অনুপ্রাণিত হবেন এবং জনগণের সেবায় এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।