
বাড়তি ব্যয়ের দায় নিতে হবে পরবর্তী সরকারকেই: অর্থ উপদেষ্টাসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এই বাড়তি ব্যয়ের দায় পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকেই নিতে হবে এবং অর্থের সংস্থান সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।ড. সালেহউদ্দিন জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নকারী পে কমিশন বুধবার বিকেল ৫টায় তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ সচিব উপস্থিত থাকবেন।অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে মাত্র ২০ দিন সময় থাকায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পে কমিশনের সুপারিশ সাধারণত হুবহু বাস্তবায়ন হয় না। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় একাধিক কমিটি কাজ করে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। তবে বর্তমান সরকার একেবারেই এটি বাস্তবায়ন করবে না—এমন কথাও তিনি বলেননি।বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে এই ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।বেতন বাড়ার সম্ভাব্য চিত্রদায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে পুরোপুরি কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।বাজারে প্রভাব পড়বে নাবেতন বৃদ্ধি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এতে বাজারে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না এবং এর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনেরও কোনো সম্পর্ক নেই।তিনি আরও বলেন, দেশের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখেই পে কমিশন সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।