
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন, ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির পশু ক্রয়ের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিটিএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের একটি বিশেষ দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (২০ জুন) গুলশান-১ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাশার গ্রেপ্তার এড়াতে বাসার ভেতরে থাকা একটি গোপন সুড়ঙ্গে আত্মগোপন করেন। তবে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার টানা অভিযান ও তল্লাশির পর পুলিশ শেষ পর্যন্ত তাকে সেখান থেকেই আটক করতে সক্ষম হয়।রোববার (২১ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন এ তথ্য জানান।পুলিশের ভাষ্যমতে, মির্জা আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, মামলার আসামি মুক্ত করার মিথ্যা আশ্বাস, অবাস্তব ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং গাড়ি ও কোরবানির গরু কেনাবেচার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।ডিএমপি জানায়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর গাড়ি কেনাবেচার নামে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলেও তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তিনি গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে অভিযান শুরু হয়। প্রায় ১৮ ঘণ্টার টানা অভিযানের পর ঘরের ভেতরে নির্মিত গোপন সুড়ঙ্গ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।