
রাজনৈতিক কোন্দল, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষের জেরে দেশজুড়ে খুন, টার্গেট কিলিং ও বন্দুক হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে সারা দেশে মোট ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১০টিরও বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে।তথ্য বলছে, মার্চ মাসে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি এবং মে মাসে ৩১০টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালের একই সময়ে ৯৯৩টি মামলা হলেও এর মধ্যে ২২৬টি ছিল আগের ঘটনার জের। ফলে প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৭৬৭। ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭৯৪।বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ অপরাধীদের সক্রিয় হয়ে ওঠা সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রভাব এখন সরাসরি রাজপথে দেখা যাচ্ছে বলে তারা মনে করেন।অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের এই তিন মাসে সবচেয়ে বেশি ২০৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা রেঞ্জে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ, যেখানে ১৮৬টি মামলা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে ১০৬টি এবং খুলনায় ৮৪টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে ঢাকাতেই সবচেয়ে বেশি ৫৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা খায়রুল হাসান বলেন, “আমরা মোটেও নিরাপদ বোধ করছি না। খুন, গোলাগুলি ও ছিনতাই যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মানুষ নিরাপত্তা চায়, কিন্তু পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।”আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির এ চিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।