
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী কারারক্ষীর সঙ্গে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ফোনালাপের অডিও ফাঁসের ঘটনায় অবশেষে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. দিদারুল আলমকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে এর আগেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া। সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।ভাইরাল হওয়া অডিওতে এক নারী অধীনস্থ কারারক্ষীর সঙ্গে জেল সুপারের কথোপকথন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্ব ও ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে একজন নারী কর্মীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন আচরণ করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহল থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।এরই ধারাবাহিকতায় কারা অধিদপ্তর তাকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বদলি করেছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।ক্রাইম অফ ২৪ মিডিয়া শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছিল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং জনমতের চাপের পর অবশেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।তবে অনেকের দাবি, শুধু বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ নয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।সচেতন নাগরিকদের মতে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আচরণ হতে হবে পেশাদার ও নৈতিক। কোনো অবস্থাতেই ক্ষমতার অপব্যবহার বা অধীনস্থ কর্মীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাই ঘটনার শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।