
ঢাকা: পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার হাজি। তবে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে অনেককেই পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত বেল্টে লাগেজ পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।হাজিদের দাবি, দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তিকর বিমানযাত্রার পর বিমানবন্দরে এসে লাগেজের জন্য আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক ক্ষেত্রে বিমান থেকে মালামাল দ্রুত খালাস করা হলেও তা বেল্টে পৌঁছাতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হচ্ছে। ফলে বয়স্ক ও অসুস্থ হাজিদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ইউনিট, কার্গো ও র্যাম্প সার্ভিস বিভাগের সমন্বয়হীনতা এবং জনবল সংকটের কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগ, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) এবং বিমানবন্দরের অপারেশন সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার দাবি উঠেছে।শুধু লাগেজ বিলম্বই নয়, বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের আরও বেশ কয়েকটি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—- ইমিগ্রেশনে দীর্ঘ সারি ও ধীরগতি।- ব্যাগেজ বেল্টে অস্বাভাবিক বিলম্ব।- ট্রলি সংকট।- পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও বসার জায়গার অভাব।- যাত্রী নির্দেশনা ও তথ্যসেবার দুর্বলতা।- ভিড় নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়হীনতা।- বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত যানজট।- বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব।হজযাত্রী ও তাদের স্বজনরা মনে করেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক হাজি দেশে ফেরেন। ফলে এ সময়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব।এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রত্যাশা, পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরা হাজিদের যেন আর অযথা ভোগান্তির শিকার হতে না হয় এবং বিমানবন্দরের সেবার মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করা হয়।