
প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকার বিশাল খেলাপি ঋণের ধকল সামলাতে গিয়ে তীব্র অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। ব্যাংকের মোট ঋণের ৭৩.১৮ শতাংশই এখন খেলাপি। এমন চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই এক রহস্যজনক ও নজিরবিহীন সুদ মওকুফের ঘটনা সামনে এসেছে। ৪৪ কোটি টাকার এক বড় ঋণখেলারির প্রায় সাড়ে ২২ কোটি টাকার সুদ মওকুফ (মঞ্জুর) করে দিয়েছে ব্যাংকটির করপোরেট শাখা।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক সুবিধা পাওয়া ব্যক্তির নাম মির্জা ফয়সাল আমিন। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং দলটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আপন ছোট ভাই।অস্বাভাবিক গতিতে ফাইল নিষ্পত্তিসাধারণত ব্যাংকগুলোতে সুদ মওকুফের আবেদন মাসের পর মাস ঝুলে থাকলেও, মির্জা ফয়সাল আমিনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আবেদন জমা দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে সব ফাইলপত্র নিষ্পত্তি করে এই সুবিধা দেওয়া হয়।রাজনৈতিক প্রভাব ও স্ববিরোধিতাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ‘ব্যবসা বঞ্চিত’ হয়েছিলেন— এমন দাবি ও ওজুহাত দেখিয়ে এই বিপুল অঙ্কের সুদ মওকুফ সুবিধা লুফে নিয়েছেন। তবে নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ভিন্ন এক বাস্তব চিত্র। প্রকৃতপক্ষে, আওয়ামী লীগের শাসন আমলেই তিনি প্রায় ১১ কোটি টাকার বড় অঙ্কের ঋণ সুবিধা ভোগ করেছিলেন।রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংক যখন খেলাপি ঋণের ভারে ডুবতে বসেছে, তখন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এমন তড়িঘড়ি সুদ মওকুফের ঘটনা ব্যাংকিং খাতে নতুন করে চরম বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।