
সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে কামাল হোসেন নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বদলি বাণিজ্য ও বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।অঢেল সম্পদের পাহাড়:অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার উত্তর বাড্ডার পূর্বাচল রোডের উদয়া ম্যানশন সোসাইটিতে (হোল্ডিং নং-৫০৯) কামালের ১,২০০ স্কয়ার ফিটের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে তিনি রাজকীয়ভাবে বসবাস করছেন এবং অন্যটি ভাড়া দেওয়া। এছাড়া একই সোসাইটিতে তার নামে আরও ৫ কাঠা জমি রয়েছে।বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ:কৌশলী এই কর্মচারী নিজের অবৈধ উপার্জনকে আড়াল করতে স্ত্রী, বোন এবং শাশুড়ির নামে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে:বোন শাহিনা সুলতানার নামে: ঢাকা শহরে প্রায় ১ একর জমি এবং বিভিন্ন দলিলে (নং-৬১৮১ ও ৪৫৫৫) বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি কেনা হয়েছে।শাশুড়ি মোসাঃ মালেকা বেগমের নামে: একইভাবে ঢাকা সিটি জরিপের বিভিন্ন দাগে বিশাল আয়তনের জমি ও ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে।অন্যান্য সম্পদ: মেরুল বাড্ডার লিংক গার্ডেনে স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও বোনের নামে পৃথক পৃথক ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও টাঙ্গাইলের মধুপুরে তার কোটি টাকার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকান ও ফিশারিজ প্রকল্প রয়েছে বলে জানা গেছে।প্রশাসনের নীরবতা:তথ্য-প্রমাণসহ কামালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে এখনো দাপটের সাথে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই অঢেল সম্পদের উৎস খুঁজে বের করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।