
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা-এ গত ২১ মাসে ২৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৯টিই রাজনৈতিক বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।সর্বশেষ রোববার রাতে যুবদল কর্মী নাছির উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর দুই দিন আগে শুক্রবার রাতে বিএনপিকর্মী প্রবাসফেরত কাউসারুজ্জামানও একইভাবে খুন হন। এছাড়া গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মাত্র দুই মাসেই চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে রাউজান। প্রায় প্রতিটি এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি রয়েছে। পুরোনো ও নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ হচ্ছে, যার জেরে ছোটখাটো বিরোধ থেকেও প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটছে।তাদের দাবি, এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। যদিও প্রশাসন এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।সূত্র জানায়, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এলাকায় বালু ও মাটি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই মূলত এই সহিংসতার বিস্তার ঘটেছে। বিশেষ করে রাঙ্গুনিয়ায় ব্যবসার কেন্দ্র থাকলেও নিয়ন্ত্রণ করে রাউজানের সন্ত্রাসীরা।চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানান, হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে মূল কারণ বালু ও মাটি ব্যবসা এবং আধিপত্য বিস্তার। তবে প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং সর্বশেষ নাছির হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে।এদিকে রাজনৈতিক বিরোধও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার-এর বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার সুযোগ নিচ্ছে সন্ত্রাসীরা বলে অভিযোগ রয়েছে।