
ভ্যাট ফাঁকি রোধ এবং করের আওতা বাড়াতে দেশের সব পণ্যে কিউআর কোড বা আধুনিক ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তামাকজাত পণ্য ও বোতলজাত পানীয়তে কিউআর কোড বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন পর্যায় থেকেই প্রতিটি পণ্যের তথ্য এনবিআরের সিস্টেমে যুক্ত করা হলে মাঠপর্যায়ে সহজেই যাচাই করা যাবে পণ্যটি করের আওতায় এসেছে কি না।এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশেও এ ব্যবস্থা চালু হলে সাধারণ মানুষ পণ্য স্ক্যান করে জানতে পারবে সেটি বৈধভাবে উৎপাদিত হয়েছে কি না এবং ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে কি না।তিনি আরও বলেন, কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে হুইসেল ব্লোয়াররা তাৎক্ষণিকভাবে সিস্টেমে তথ্য দিতে পারবে এবং তাদের পুরস্কৃত করা হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।এ উদ্যোগের সূচনা তামাক খাত দিয়ে হতে পারে বলে জানান তিনি। কারণ এ খাতে রাজস্ব ফাঁকি তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোলের নকশা ও আঠার ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি উন্নতমানের কোড সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নজরদারিতে আনা সম্ভব হবে।পরবর্তীতে পানীয়সহ অন্যান্য খাতেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। ধাপে ধাপে সাবান, শ্যাম্পু, টিস্যুসহ সব পণ্যে কিউআর কোড যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কর প্রশাসনের লক্ষ্য ব্যবসা ধ্বংস করা নয়, বরং বিকাশে সহায়তা করা। মৌমাছির মতো ফুলের ক্ষতি না করে মধু সংগ্রহের মতো কর আদায় করা উচিত।অতিরিক্ত জরিমানা ও জটিলতা কমানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে কঠোর শাস্তির কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিট নির্বাচন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।