
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আগামী ১২ তারিখ সতর্ক থাকতে পারলে ১৩ তারিখ থেকেই হবে জনগণের দিন।” আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে আগমনের স্মৃতি চারণ করে তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর এখন সময় দেশ গঠন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের। তিনি জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচন সফল হলে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে পরদিন থেকেই।জনসভায় তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে উত্তরবঙ্গের পানির সমস্যা সমাধানে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প পুনরায় কার্যকর করা হবে। এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণে রাজশাহী আইটি পার্ক সচল, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষি কার্ড চালু এবং নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের পরিকল্পনার কথাও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হওয়া কমবে।বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারকে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো বিশৃঙ্খলায় বিএনপির কেউ জড়িত থাকলে দল আইনানুগ বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে। গত ১৬ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং মেগা প্রকল্পের আড়ালে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের বড় পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।” তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ১২ তারিখ পর্যন্ত প্রার্থীদের পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ১৩ তারিখ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।জনসভা শেষে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। এ সময় জনসভায় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।