রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬ | ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সদ্য সংবাদ
প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে ৮৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগে ৪ সিটি করপোরেশন কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ২৪-এর এই দিনে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা, সঙ্গে ছিলেন শেখ রেহানা শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও হা’মলার অভিযোগ ভোক্তা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ, সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ বংশালে বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসরে হানা, ১৭ জন গ্রেপ্তার অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একজন বীর সেনানী: সৎ ও দূরদর্শী পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি ড. নাজমুল করিম খান নোয়াখালীতে প্রবাসীর বাড়িতে অ’স্ত্র ঠেকিয়ে চাঁ’দাবাজি, বিদেশি পি’স্তলসহ গ্রেপ্তার ১ ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৫৮, উদ্ধার মা’দক, অ’স্ত্র ও ২৮ লাখ টাকার জালনোট মা’দকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই আগে ব্যবস্থা, প্রয়োজনে ডোপ টেস্ট: খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি
জাতীয়

মার্কিন ভিসা বন্ডে বাংলাদেশিদের ভোগান্তি যেখানে

মার্কিন ভিসা বন্ডে বাংলাদেশিদের ভোগান্তি যেখানে

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতির আওতায় ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশটিতে যেতে আগ্রহী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত বা ভিসা বন্ড দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ থেকে ১৯ লাখ টাকা। ভিসা পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারী যেন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন—এ বিষয়টি নিশ্চিত করতেই ১২ মাস মেয়াদি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ড জমা দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’ ব্যবহার করতে হবে। কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া আগেভাগে কোনো অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বন্ড দিতে বলা হলেও ভিসা নিশ্চিত হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। যদিও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্ডের নির্দেশনা পাওয়া আবেদনকারীর জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশি ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য নির্ধারিত তিনটি বিমানবন্দর হলো—নিউইয়র্কের জেএফকে, বোস্টনের লোগান এবং ওয়াশিংটনের ডুলস। এর বাইরে অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে, অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করলে অথবা আশ্রয়ের আবেদন করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘিত হবে এবং জমাকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া জটিল হয়ে পড়বে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে আসেন বা ভিসার মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ না করেন, তাহলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। যদিও অর্থ ফেরতের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেও এইচ-ওয়ানবি ভিসার খরচ বৃদ্ধি এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
ট্রাভেল এজেন্সি সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, নতুন এই নিয়মের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে, যা ট্রাভেল ও এয়ারলাইন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, কারণ ভিসা বন্ড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই দেশটিকে ‘হাই-রিস্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানও এই নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় এসেছে।

সর্বশেষ
পাঠক প্রিয়