
বাংলাদেশে বিত্তশালী শ্রেণির হাতে সঞ্চিত বিপুল অর্থের একটি বড় অংশই দরিদ্র মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে জমা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। কর বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্র তার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গরিব ও সাধারণ মানুষের ওপর।তারা জানান, এখনো খুব অল্পসংখ্যক ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তি রয়েছেন যারা স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে নিয়মিত কর পরিশোধ করতে আগ্রহী। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।অন্যদিকে, যারা আইন মেনে সঠিকভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে চান, তাদের নানাবিধ জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। কর দপ্তরের দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির কারণে অনেকেই কর প্রদানে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কর আদায়ের পাশাপাশি আদায়কৃত করের অর্থ যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহার না হওয়াও একটি বড় সমস্যা। উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে করের অর্থের সঠিক ব্যবহার দৃশ্যমান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কর প্রদানের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।সচেতন মহল মনে করে, ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাদের উচিত জনগণের কষ্টার্জিত অর্থকে গরিব মানুষের হক হিসেবে বিবেচনা করা। একই সঙ্গে করের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, সৎ করদাতাদের জন্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং কর ফাঁকি দাতাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা জরুরি।তাদের দাবি, কর না দেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা সীমিত করা হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।