
অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।দুদক ও রাজউক সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের সুয়োমুটো রুলের নির্দেশনার আলোকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে উপপরিচালক মো. ইয়াছির আরাফাতকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক জেসমিন আক্তার ও মো. তানজিব হাসিব সরকার।অনুসন্ধান টিম অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত নথি, সম্পদের হিসাবসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। পর্যালোচনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর জাফর সাদেক, হিসাবরক্ষক এ কে এম বায়েজিদ খান, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আবদুল মোমিন, নকশাকার এমদাদ আলী, ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান, সার্ভেয়ার মাসুম বিল্লাহ, সুপারভাইজার খালেদ মোশাররফ তালুকদার, বেঞ্চ সহকারী বাসার শরীফ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ইউসুফ মিয়া, বেলাল হোসেন চৌধুরী রিপন, নকশাকার শহীদুল্লাহ বাবু (চলতি দায়িত্ব), উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ হাসান, নকশাকার শেখ ফরিদ ও রেকর্ডকিপার মো. ফিরোজ।দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর আগে বিভিন্ন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ঘুষ, প্লট বাণিজ্য, নকশা অনুমোদনে অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উল্লেখ রয়েছে।দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধান চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।