
ঢাকা Premier Bank–এর বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক নারী কর্মকর্তা (নাম: মৌসুমি তালুকদার—অভিযোগ অনুযায়ী) এর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার প্রভাব এখন ব্যাংকের গ্রাহক আস্থা ও কর্পোরেট পরিবেশেও পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔹 ঘন ঘন শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন ও অস্থিরতা
গোপন সূত্র ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকে ঘন ঘন MD, DMD ও ম্যানেজার পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালকে বহিষ্কারের পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এটি একটি স্বৈরাচার সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যাংক ছিল—এই বিশ্বাস থেকেই অনেক আমানতকারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
🔹 আমানত প্রত্যাহার ও ব্যাংক পরিবর্তনের আশঙ্কা
গোপন সূত্রে জানা গেছে,
অনেক আমানতকারী অন্য ব্যাংকে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন
গত বছরের শেষের দিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক তাদের FDR ইনক্যাশ করেছেন
কর্পোরেট ও বড় আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাংক পরিবর্তনের প্রবণতা বাড়ছে
এতে Premier Bank–এর সার্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
🔹 চাকরি ও পদায়ন সংক্রান্ত অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, মৌসুমি তালুকদার ২০০৮ সালে Premier Bank–এ যোগ দেন এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত একই ব্যাংকের একাধিক শাখায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা সাধারণত তিন বছরের বেশি সময় একই শাখায় অবস্থান করতে পারেন না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই নীতিমালা উপেক্ষা করেই তাকে বারবার একই শাখায় বহাল রাখা হয়েছে।
🔹 বর্তমান কর্পোরেট ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের ভূমিকা
ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমান Premier Bank কর্পোরেট ব্রাঞ্চের ম্যানেজার কামরুজ্জামান যদি মৌসুমি তালুকদারকে প্রশ্রয় না দিতেন, তাহলে একই ব্যাংকের একই ব্রাঞ্চে টানা ৬ বছর অবস্থান করা তার পক্ষে সম্ভব হতো না।
🔹 আরএম ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়, ব্যাংকে আগত Relationship Manager (RM), ম্যানেজার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে, তাদের সন্তুষ্ট রেখে ও প্রভাবিত করে তিনি দীর্ঘদিন একই জায়গায় থেকে যাওয়ার সুবিধা আদায় করেছেন।
🔹 রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগের দোষার হিসেবে পরিচিত সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল–এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে একই অবস্থানে বহাল থাকতে পেরেছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
🔹 কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও আইডি রেকর্ড যাচাই করলে দেখা যাবে—
তার উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের রেকর্ড নেই
নির্ধারিত কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয় না
অফিস সময়ে ব্যাংকিং দায়িত্বের পরিবর্তে ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে বেশি সময় ব্যয় করা হয়
🔹 কর্পোরেট ক্লায়েন্ট ও উপহার আদায়ের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ক্লায়েন্টকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে—
প্রসাধনী সামগ্রী
ব্যক্তিগত উপহার
আর্থিক ও অন্যান্য অনৈতিক সুবিধা
আদায় করেছেন বলে একাধিক অভিযোগ এসেছে।একই ব্যাংকের ব্রাঞ্চে সে কিভাবে ছয় বছর কর্মরত এটি প্রশ্নের বিষয় কর্তৃপক্ষের কাছে।
🔹 পরিচয় পরিবর্তন ও প্রতারণার অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে “মৌসুমি তালুকদার”, “মৌসুমি শিকদার” ও “বর্ষা চন্দ্রা” নাম ব্যবহার করে শিল্পপতি, পেশাজীবী ও কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ ও সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন।
🔹 ব্যক্তিগত জীবন ও বিশ্বাসভঙ্গ
তার ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক সম্পর্ক ও বিবাহ ভেঙে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পর্কের সুযোগ নিয়েও আর্থিক সুবিধা আদায়ের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
🔹 ব্যাংকিং শিষ্টাচার লঙ্ঘন
ব্যাংক চলাকালীন সময়ে ডেস্কের ওপর বসে খাবার গ্রহণসহ বিভিন্ন অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা ব্যাংকের নীতিমালা ও পেশাদার পরিবেশের পরিপন্থী।ব্যাংকে কর্মস্থলে কাজের সময় ডেস্ক এ রেখে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে পরিবেশ নষ্ট করে।ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এভাবে খাওয়া যায় না।
🔹 ভুক্তভোগীদের দাবি
ভুক্তভোগীরা Premier Bank কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে—
শীর্ষ পর্যায় থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত
আইডি ও কর্মদক্ষতা অডিট
রাজনৈতিক ও ব্যবস্থাপনা প্রভাবের অনুসন্ধান
প্রয়োজনে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা
গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকের এফডিআর এবং কর্পোরেট ক্লাইন্ট।
🔹 প্রভাব বিস্তার, হুমকিসূচক বক্তব্য ও নীতিমালা অমান্যের অভিযোগ (সংযোজন)
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মৌসুমি তালুকদার তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিয়ে আসছেন যে—
“আমাকে কেউ বন্দি করতে পারবে না, আমি মতিঝিল এলাকাতেই থাকবো। আমি ইকবাল সাহেবের লোক—আমাকে কেউ সরাতে পারবে না।”
অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী ও অপ্রতিরোধ্য হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা ব্যাংকের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের মধ্যে ভীতি, অসন্তোষ এবং আস্থার সংকট তৈরি করছে।
ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলেছেন—
একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও
কীভাবে তিনি একই ব্যাংকের একই ব্রাঞ্চে টানা ছয় বছর কর্মরত থাকতে পারেন
এবং কী যুক্তিতে তাকে একবার অন্য অফিসে বদলি করে আবার পুনরায় মতিঝিল কর্পোরেট ব্রাঞ্চে ফিরিয়ে আনা হয়
🔹 কর্তৃপক্ষের অবস্থান
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত Premier Bank কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।