
সরকারি অনলাইন সেবা যেন এক ভোগান্তির নামসরকার দেশের মানুষের সুবিধার্থে এবং সহজে বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দিতে অনলাইন পোর্টাল বা ওয়েবসাইট চালু করলেও, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশের প্রায় ৯০% সরকারি ওয়েবসাইট বর্তমানে অকেজো বা নামমাত্র সচল রয়েছে। অনলাইন সেবার নামে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।খাতওয়ারী ভোগান্তির চিত্র:ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাট (সিটি কর্পোরেশন):সিটি কর্পোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) এলাকায় অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স করা বা নবায়ন করার কথা থাকলেও ওয়েবসাইটগুলো পরিকল্পিতভাবে লক বা অচল করে রাখা হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে গ্রাহকদের দালাল চক্রের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। একটি সাধারণ লাইসেন্স করতে যেখানে আড়াই হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হওয়ার কথা, সেখানে দালাল ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটের কারণে ১২,০০০ টাকার কাজ ১৬,০০০ থেকে ১৮,০০০ টাকায় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স বিভাগ এই দুর্নীতির মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।ভূমি অফিস ও খাজনা খারিজ:অনলাইনে খাজনা দেওয়ার জন্য গ্রাহকরা ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারেন না। কোনো গ্রাহক টাকা জমা দিতে গেলে ওয়েবসাইট রেসপন্স করে না, সম্পূর্ণ সাদা স্ক্রিন (Blank) হয়ে থাকে। ভূমি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার, কানুনগো এবং সহকারী কর্মকর্তারা বাইরের লোক এনে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ফলে ৫০০ টাকার খাজনার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।রেলওয়ে ও বিআরটিএ (BRTA):রেলওয়ের টিকিট কাটতে বা বিআরটিএ-র জরুরি সেবা নিতে গেলেও একই অবস্থা। ওয়েবসাইটগুলোতে সবসময় ‘ব্লক’ বা ত্রুটি দেখা যায়।ইমপোর্ট লাইসেন্স:আমদানি লাইসেন্সসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ সাইটগুলোও অনলাইনের নামে কেবল প্রহসন তৈরি করে রেখেছে। কাজের বেলায় ডিজিটাল কোনো সুবিধাই মিলছে না।ব্যতিক্রম শুধু শৃঙ্খলা বাহিনী:সারাদেশের সরকারি পোর্টালগুলোর এই বেহাল দশা হলেও পুলিশ, বিডিআর (বিজিবি), আর্মি এবং নৌবাহিনীর ওয়েবসাইটগুলো সম্পূর্ণ সচল এবং সুন্দরভাবে কাজ করছে। অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কেন এমন স্বচ্ছ ও কার্যকর ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে পারছে না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।জনগণের দাবি ও জরুরি আহ্বান:মহান সংসদে এবং সরকারি পর্যায়ে অনলাইন সেবার বড় বড় কথা বলা হলেও, পর্দার আড়ালে এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ইচ্ছা করেই ওয়েবসাইটগুলো অকেজো করে রাখছেন, যাতে তাদের ঘুষ বা অবৈধ উপার্জনের পথ বন্ধ না হয়। এই ধরণের জালিয়াতি ও প্রতারণা সম্পূর্ণ বেআইনি। ভুক্তভোগী জনগণের জোর দাবি—অনতিবিলম্বে এই ‘এনালগ সিন্ডিকেট’ ভেঙে সরকারি ওয়েবসাইটগুলো সম্পূর্ণ সচল করা হোক এবং জড়িত দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা হোক।