
বহু বিতর্কিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলামকে অবশেষে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে পেশাগত আচরণ ও দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।তার বিরুদ্ধে আলোচিত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ। অভিযোগ রয়েছে, খুলশী থানায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার জোবায়েদ ইবনে শাহাদাতকে কক্ষে আটকে রেখে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল।এছাড়া জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে গাড়ি তল্লাশির নামে আটকে রেখে হয়রানির ঘটনায়ও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ ছিল।নগরীতে গ্রাফিতি আঁকতে আসা সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত তরুণদের হয়রানির অভিযোগও জনমনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এসব ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।সমালোচকরা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ওঠা এবং তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সত্য নির্ধারণ করবে।